প্রশ্নের প্যাঁচে বুদ্ধির লড়াই, শেষ হাসি কোচবিহারের দেবাদিত্য
ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি, ৩০ আগস্ট: কঠিন সব প্রশ্ন। তার সঙ্গে দ্রুত উত্তর দেওয়ার চাপ। আর প্রতিটি প্রশ্নের পরেই বদলে যাচ্ছে লড়াইয়ের ছবি। শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে, তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা। এমনই জমজমাট পরিবেশে শনিবার শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এসআইটি)-তে হয়ে গেল ‘নলেজ নকআউট সিজন ৩—মেগা ইন্টারস্কুল কুইজ কম্পিটিশন’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। শেষ প্রশ্ন পর্যন্ত জমে থাকা লড়াইয়ে বাজিমাত করল কোচবিহারের বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ। চ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠল ওই স্কুলের পড়ুয়া দেবাদিত্য সরকারের মাথায়। একের পর এক কঠিন প্রশ্নের মুখে ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিয়ে শেষ পর্যন্ত সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নেয় সে। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল এসআইটি। ‘পাওয়ার্ড বাই’ হিসেবে সহযোগিতায় ছিল মুখার্জী হসপিটাল, শিলিগুড়ি এবং ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, শিলিগুড়ি শাখা। হেলথকেয়ার পার্টনার ছিল হিমালয়ান নার্সিং কলেজ অ্যান্ড স্কুল, শিলিগুড়ি এবং টেকনিক্যাল পার্টনার এমটিআরটি গ্রুপ, ডালখোলা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, পশ্চিমবঙ্গের (ম্যাকাউট) পরীক্ষা নিয়ামক ড. শুভাশিস দত্ত-সহ বিশিষ্ট অতিথিরা।
চ্যাম্পিয়ন দেবাদিত্যর পরে প্রথম রানার্স-আপ হয়েছে সোনারপুর বি কে হাই স্কুলের হর্ষিত রায়। দ্বিতীয় রানার্স-আপের জায়গা দখল করেছে জলপাইগুড়ির জার্মেলস অ্যাকাডেমির রুদ্র ভাওয়াল। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্রফি ও শংসাপত্র। পাশাপাশি প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানাধিকারীকে যথাক্রমে ৪০ হাজার, ৩০ হাজার এবং ২০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের যুগ্ম আহ্বায়ক তথা বিসিএ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রোফেসর রত্নাঙ্কুর মজুমদার ও বিবিএ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রোফেসর পারমিতা চৌধুরী জানান, ‘নলেজ নকআউট’-এর এটি তৃতীয় বছর। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিহারের কিশানগঞ্জ-সহ সংলগ্ন এলাকার স্কুল পড়ুয়াদেরও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ বার ২৫টিরও বেশি শহরের ৬০টির বেশি স্কুল থেকে চার হাজারেরও বেশি পড়ুয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে লড়াইয়ের পর সেরা প্রতিযোগীরাই এ দিন গ্র্যান্ড ফিনালেতে মুখোমুখি হয়।
ফাইনাল পর্ব পরিচালনা করেন তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরের পরিচিত কুইজমাস্টার এবং ‘কুইজ ক্যাটালিস্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সূর্য নারায়ণন। তাঁর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই ছিল উত্তেজনা, হাসি-মজা এবং বুদ্ধির লড়াই। কঠিন প্রশ্ন সামনে আসতেই প্রতিযোগীদের দ্রুত ভাবনা-চিন্তা করে উত্তর বেছে নেওয়ার মুহূর্তগুলি দর্শকদেরও আকৃষ্ট করে। ফাইনালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘অডিয়েন্স রাউন্ড’। শুধু মঞ্চে থাকা প্রতিযোগীরাই নয়, দর্শকরাও এই পর্বে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ পান। সঠিক উত্তরদাতাদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় পুরস্কার। ফলে কুইজের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা অডিটোরিয়ামেই।
টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাস্কর রায় বলেন, “নলেজ নকআউট গত তিন বছর ধরে আমরা আয়োজন করছি। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়াদের নিয়েই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মূলত কুইজের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।” অন্যদিকে, এসআইটির ভাইস প্রিন্সিপাল তথা অনুষ্ঠানের চেয়ারপার্সন ড. অরুন্ধতী চক্রবর্তী বলেন, “প্রথম যখন এই প্রতিযোগিতা শুরু করেছিলাম, তখন প্রায় ৫০০ পড়ুয়া অংশ নিয়েছিল। এবার চার হাজারের বেশি পড়ুয়া অংশ নিয়েছে। উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামের পড়ুয়ারাও এবার এই প্রতিযোগিতায় এসেছে।” পাশাপাশি, আয়োজকদের মতে, ‘নলেজ নকআউট’ শুধুমাত্র একটি কুইজ প্রতিযোগিতা নয়। পড়ুয়াদের মধ্যে সাধারণ জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি কৌতূহল, যুক্তিবোধ, উপস্থিত বুদ্ধি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহ দেখা গিয়েছে বলে দাবি আয়োজকদের।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাস্কর রায়, এসআইটির ভাইস প্রিন্সিপাল ড. অরুন্ধতী চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের স্কুল পড়ুয়াদের এক মঞ্চে এনে জ্ঞানের এই লড়াইকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই উঠে এসেছে এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে।
Leave a Comment