গল্প হলেও সত্যি ছিল ডোরেমনের গল্প! সত্যি ছিল জাপানের নবীতা, সিজুকা, জিয়ান এবং সুনিও
ছোট থেকে বড় বিনোদন জগতের সবচাইতে পছন্দের কার্টুনগুলির মধ্যে অন্যতম একটি কার্টুন হল ডোরেমন। কিন্তু জানেন কি? ডোরেমন নির্মিত হয়, একটি মর্মান্তিক সত্য ঘটনা অবলম্বনে!
মুলত জাপানের এক প্রত্যন্ত শহরে নোবি পরিবার বসবাস করতেন। তাদের একমাত্র ছেলে নবিতা! যে ছোট থেকেই শারিরীক এবং বুদ্ধিমত্তার দিক দিয়ে খুবই দূর্বল ছিল, যার কারণে স্কুলে সবাই তাকে নিয়ে মজা করতো, বেশি বিরক্ত করতো জিয়ান ও সুনিও। কিন্তু শিজুরু (Shizuka Minamoto) একমাত্র নবিতার বন্ধু ছিল, কিন্তু বছর ঘুরতেই নবিতার প্রিয় বান্ধবী শিজুকার পরিবারের ট্রান্সফার হয়ে যায় অন্য শহরে চলে যায়। তারপরেই নবিতা একা হয়ে যায় মন মরা হয়ে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়, যেটা পরবর্তীতে মনরোগে পরিণত হয়। তবে জাপানি কবির কিছু লেখা থেকে জানা গিয়েছে নবিতার একটি পোষ্য বিড়াল ছিল। সেই বিড়ালের মারা যাওয়াটাই নাকি নবিতাকে দিয়েছিল বিশাল এক দুঃখ।
বিশেষত নবিতা কল্পনার জগতে থাকতে বেশি ভালোবাসত এবং তার থেকেই জানা যায় নবিতা একদিন খেলতে গিয়ে একটি নীল রংয়ের অদ্ভুত বিড়াল দেখতে পেয়েছিল। শিজুকা তার নাম দেয় ডোরেমন। হঠাৎ শিজুকার যাওয়ার পর থেকে নবিতা সেই বিড়ালের সাথেই সময় কাটাতো, কিন্তু একদিন খেলতে বের হলে, নবিতার স্কুলের ছেলেরা নবিতাকে নিয়ে মজা করতে করতে বিড়ালটিকে মেরে ফেলে। তারপর বলা হয় নবিতা সেই আঘাতে কোমায় চলে যায়, দীর্ঘ কয়েকবছর সে কোমায় থেকে স্বপ্ন দেখে, যে শিজুকা ফিরে এসেছে এবং নবিতার জন্য ফিউচার থেকে একটি রোবট পাঠানো হয় যার নাম ডোরেমন, সে গ্যাজেট দিয়ে নবিতার সব ইচ্ছা পুর্ন করতো, নবিতা আর দূর্বল ছিল না। কিন্তু, কোমা থেকে জেগে নবিতা যখন জানতে পারে, এসব স্বপ্ন ছিল তখন সে আরও ভেঙে পরে, তার বিশ্বাস ডোরেমন আছে। আসলে বাস্তবে ডোরেমন বলে কিছুই নেই তার কাছে। এই সত্যি ঘটনা সহ্য করতে পারেনি তখন ছোট্ট নবিতা। না পেরে নবিতা সুইসাইড করে এবং সুইসাইডের পূর্বে সে ডাইরিতে তার দেখা স্বপ্নগুলো লিখে যায়, যার ভিত্তিতে লেখক ফুজিও (Fujio) ডোরেমন কার্টুনটি নির্মাণ করেন।
বিড়াল মারা যাওয়ার পর, সে এক ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়, যেখানে মানুষ যা কল্পনা করে, সেটাই সত্য মনে করে তার কল্পনাতেই ছিল ডোরেমন। জাপানের এক ছোট্ট শহরের এই ছেলেটি বাস্তব জীবনে কল্পনাতে থেকেই কার্টুন ডোরেমনের সঙ্গে সময় কাটাতো। আর সেই ডোরেমনই কল্পনার যোগও থেকে টেনে এনে জাপানি কবি এক পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্টুন হিসেবে গণমাধ্যমে তুলে ধরেন আর তারপরেই ডোরেমন হয়ে যায় ছোট থেকে বড় সবার এক প্রিয় ক্যারেক্টার।
Leave a Comment